| ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |১৯শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি October 30, 2026, 2:02 am
শিরোনাম :
গভীর সুন্দর বন এলাকার হোগল নদীর বাঁধ ভাঙণ, নদীগর্ভে সর্বসান্ত বহু পরিবার আগামী ৩০,শে অক্টোবর বারুইপুরের এন আই সি মাঠে পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে মাঠ পরিদর্শন করতে বিজেপি র সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ মদনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও হাত ধোয়ার কৌশল প্রদশন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বেগমপাড়া নাটকের প্রচার স্টলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক দিঘলিয়ার গাজিরহাটে ভিডব্লিউবির চাল বিতরণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করায় সাংবাদিককে গালিগালাজ ও হুমকি সুন্দর বন এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সকলকেই এগিয়ে আসার আহ্বান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিঘলিয়ায় জাতীয় পার্টির উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত দিঘলিয়ায় সেনহাটি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সন্মেলনে অধ্যক্ষ মাওঃ কবিরুল ইসলাম দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে জান ও মাল দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে খুলনার দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান এর মায়ের  জানাজা ও দাফন সম্পন্ন, প্রেসক্লাবের শোক বিবৃতি। উস্তি থানা এলাকায় উত্তর কুসুম গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

হারানো শিশু রহমানকে মায়ের কোলে ফেরালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা সানজিদ

জিএম রাশেদ ঢাকা প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময়: বুধবার, নভেম্বর ৫, ২০২৫
  • 340 সময় দেখুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে পথ হারানো এক আট বছরের শিশু রহমানকে তার পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিব হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানজিদ ইসলাম সাহিব।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল বিকেলে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ছোট্ট রহমানকে জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে একা বসে থাকতে দেখেন সানজিদ। শিশুটির দুর্বল অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি প্রথমেই তাকে পানি ও খাবার দেন এবং শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তিনি বুঝতে পারেন—শিশুটি পথ হারিয়েছে। রহমান নিজের নাম বলতে পারলেও পিতামাতার নাম বা সঠিক ঠিকানা কিছুই জানাতে পারছিল না।

রহমান জানায়, সে গত সাত দিন ধরে টিএসসি মেট্রো স্টেশনের নিচে অবস্থান করছিল এবং সেখান থেকে হেঁটে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে চলে আসে। ঠিকানা জানতে চাইলে সে শুধু “সূত্রাপুর” শব্দটি উচ্চারণ করতে পারে।

এরপর সানজিদ রহমানকে নিয়ে টিএসসি মেট্রো স্টেশনে ফিরে যান। সেখানকার কিছু দোকানদার জানান, হারিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি কিছু ভবঘুরের কবলে পড়ে, যারা তাকে অসাধু কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সানজিদ দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান।

তবে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, থানায় রহমানকে নিয়ে কোনো নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি, ফলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। পরে সানজিদ নিজ উদ্যোগে সূত্রাপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে রহমানের পরিবারের ঠিকানা সংগ্রহ করেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি রহমানকে তার বাবা-মায়ের হাতে নিরাপদে তুলে দেন।

ছেলেকে ফিরে পেয়ে রহমানের মা আবেগে ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন,
“রহমান আমার একমাত্র সন্তান। আমি তাকে মানুষ করতে চাই, কিন্তু সংসারের টানাপোড়েনে তা পারি না। সানজিদ ভাইয়ের মতো মানুষ থাকলে সমাজে আজও মানবতা বেঁচে আছে।”

তিনি আরও যোগ করেন,
“তিনি নিশ্চয়ই একজন ভালো মায়ের সন্তান। তার জন্য আমি মন থেকে দোয়া করি।”

পরবর্তীতে জানা যায়, সেদিন বাড়ির পাশে খেলতে খেলতে রহমান পথ হারায়। এক ব্যক্তি তাকে রমনা পার্কে যাওয়ার প্রলোভন দিয়ে শাহবাগগামী বাসে তোলে। সেখান থেকেই সে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে আসে।

সানজিদ বলেন,
“ছাত্রদল সবসময় মানবিক কাজকে প্রাধান্য দেয়। এটা কোনো রাজনৈতিক কাজ নয়, এটা একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের দায়িত্ববোধ। একজন মায়ের কোল খুঁজে দিতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর