
ফোনালাপের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, নিন্দা ও প্রতিবাদ সুশীল সমাজের
দিঘলিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি (VWB) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করাকে কেন্দ্র করে দৈনিক অনির্বাণ পএিকার দিঘলিয়া প্রতিনিধি, ও খুলনার খবর এর বার্তা সম্পাদক এস.এম.শামীম সাংবাদিক কে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিলা ইউপি সদস্য কানন বালা স্যান্যালের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ফোনালাপের একটি রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজিরহাট ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও প্রকৃত উপকারভোগীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন সাংবাদিক শামীম । এ সময় তথ্য সংগ্রহের বিষয়কে কেন্দ্র করে মহিলা ইউপি সদস্য কানন বালা স্যান্যালের ও অন্য এক ইউপি সদস্যের সাথে
ফোনালাপ হয় । সেই ফোনালাপে কানন বালা সরাসরি ঐ সাংবাদিক কে অখ্যাত ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর এর হুমকি দেয় ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফোনালাপে সাংবাদিক কে গালিগালাজ করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ফোনালাপের একটি রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
উল্লেখ্য, গাজিরহাট ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এর আগে থেকেই স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের কেউ নিয়মিত চাল পাচ্ছেন কি না, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন কি না এবং নির্ধারিত চাল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সহায়তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিক কে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। এ ঘটনায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তাঁদের মতে, সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এবিষয়ে সাংবাদিক শামীম এর পক্ষ থেকে কানন বালার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানা যায়।
সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অনিয়মের অভিযোগ এবং সাংবাদিক কে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ—দুটি বিষয়ই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা পান এবং সাংবাদিকেরা নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত।