
মিজানুর রহমান, নেহালপুর সংবাদদাতা।। মনিরামপুরে মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এসবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড রাজকুমার মণ্ডলকে জোরপূর্বক চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করা এবং পরে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় রাজকুমারের স্ত্রী মিনতি মণ্ডল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজকুমার মণ্ডল মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মিনতি মণ্ডলের দাবি, প্রায় দুই মাস আগে কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান তাঁর স্বামীকে কক্ষে ডেকে নিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে মিনতি মণ্ডল উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) ছাড়াই তাঁকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর স্বামী স্বেচ্ছায় কিংবা স্বাধীন ইচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি; বরং ভয়ভীতি, মানসিক চাপ ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিনতি মণ্ডলের দাবি, গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাং থেকে তাঁর স্বামীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে রাজকুমার তাঁকে জানিয়েছিলেন, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে তাঁর আর চাকরি করা সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বেও তাঁর স্বামীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ছিল। রাজকুমারের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বামীর সন্ধান এবং অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মিনতি মণ্ডল।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষের বক্তব্য অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, “রাজকুমার তাঁর চাকরিগত কিছু সমস্যার কথা কয়েক মাস আগে আমাকে জানিয়েছিলেন। এরপর আমি তাঁকে ২০ হাজার টাকাও দিয়েছি। তবে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) অলোক কুমার মন্ডল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রাজকুমার মণ্ডলের সন্ধান এবং তাঁর চাকরি থেকে অব্যাহতির পেছনের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।