
খুলনা জেলা প্রতিনিধি।।
খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নে স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস বিক্রির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার এক অজ্ঞাত ব্যক্তি কম দামে গরুর মাংস বিক্রি করলে স্থানীয় অনেকেই তা কিনে নেন।
তবে পরে বাড়িতে নিয়ে রান্না করার সময় মাংস থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, কম দামের প্রলোভনে তারা মাংস ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু রান্নার পর অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ পাওয়ায় তারা বুঝতে পারেন মাংসটি ভালো ছিল না।
এ ঘটনার পর ক্রেতারা বিক্রেতাকে খুঁজতে থাকলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করেন। একাধিক গোপন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, দিঘলিয়ার ব্রক্ষগাতী এলাকার বাসিন্দা সাহেব আলির ছেলে বাবুলের একটি গরু দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সেই মৃত গরুটি নিজ বাড়িতে জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা বাবুলের বাড়িতে গেলে তিনি দাবি করেন, গরুটি মারা যাওয়ার পর তিনি ২ হাজার টাকায় একটি ভ্যানে করে তার ভাইয়ের মাধ্যমে নদীতে ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।
তবে এ সংক্রান্ত ভ্যানচালক ও তার ভাইয়ের নাম ও ফোন নম্বর চাইলে তিনি তা দিতে পারেননি। পরে তিনি পরদিন সন্ধ্যা ৭টায় বিষয়টি স্পষ্ট করার আশ্বাস দেন।
পরদিন ফোনে যোগাযোগ করা হলে বাবুল গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন বিষয়টি সংবাদ আকারে প্রকাশ না করতে এবং এটিকে তার সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তাকে দিঘলিয়া থানার সামনে উপস্থিত হতে বলা হলে তিনি আসার কথা জানালেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি।
পরে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি রিসিভ করেন একই এলাকার কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি সাংবাদিকদের এলাকায় গিয়ে সরাসরি কথা বলার আহ্বান জানান। তবে নিরাপত্তার কারণে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় বাবুলের পক্ষ থেকে “তোমরা যা পারো করো” বলে হুমকিসূচক মন্তব্য করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত পশুর মাংস বিক্রি করা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।