
নিজস্ব প্রতিবেদক।। নিজেকে বদলে সমাজকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন খুলনার তরুণ উদ্দোক্তা ও সমাজকর্মী মো: রবিউল ইসলাম । ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রতিকূলতা, সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন তরুণদের একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য রক্ত দান, বৃহ্মরোপণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জলবায়ু সচেতনতা ইত্যাদি এবং মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা।
রবিউল এর বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশ খানা গ্রামে। বর্তমান দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি বাজারে একটা ব্যাবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
জীবনের পথ সবসময় সবার জন্য সমান হয় না। কারও পথ মসৃণ, আবার কারও পথ তৈরি হয় বাধা, ব্যর্থতা, সমালোচনা আর নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর গল্প দিয়ে। মো:রবিউল ইসলাম পথচলাটাও তেমনই। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলাতে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তিনি। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তরুণদের সংগঠিত করা এবং নিজের শহর উপজেলা গ্রাম পাড়াকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তোলার চিন্তা থেকেই তাঁর সামাজিক কাজের শুরু।
তবে শুধু নিজের উদ্যোগে কিছু কাজ করে থেমে থাকেননি তিনি। সময়ের সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি হয়েছে, একটি শহর উপজেলা বা সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে প্রয়োজন মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, বিশেষ করে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা। এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয়, দিঘল দ্বীপ ব্লাড ডোনার সোসাইটি। সংগঠনটির কার্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছে রক্ত দান, অসহায় গরীব মানুষ কে সাহায্য করা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, প্লাস্টিক দূষণ কমানো, বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা, তরুণ নেতৃত্ব তৈরি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্যোগে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা।
খুলনার মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চলে এসব কাজকে তিনি শুধু পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন হিসেবে দেখেন না। তাঁর কাছে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য শহর তৈরির দায়িত্ব। পথচলায় অবশ্য বাধাও এসেছে। কখনও সহযোগিতা পাওয়া গেছে, কখনও পাওয়া যায়নি। সমালোচনা এসেছে, ভুল থেকে শেখার সুযোগও এসেছে। কিন্তু এসব অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি মনে করেন, পরিবর্তন শুধু অন্য কারও জন্য অপেক্ষা করে আসে না। পরিবর্তনের শুরুটা করতে হয় নিজের জায়গা থেকেই। তাঁর নেতৃত্বে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা বিভিন্ন রক্ত দান, গরীব অসহায় মানুষ কে সাহায্য করা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সচেতনতা কর্মসূচি, প্লাস্টিকবিরোধী প্রচারণা, প্রশিক্ষণ এবং রক্ত দান ও জলবায়ু বিষয়ক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের মানসিকতা তৈরি করাকে গুরুত্ব দেন তিনি।
তাঁর বিশ্বাস, তরুণদের শুধু কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী হিসেবে নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিবর্তনের নেতৃত্বদাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। রবিউল ইসলামের গল্প তাই শুধু একজন সংগঠকের গল্প নয়। এটি এমন একজন মানুষের গল্প, যিনি নিজের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কাজ করার চেষ্টা করেছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্নকে একটি সামাজিক উদ্যোগে রূপ দিয়েছেন। তাঁর সামনে এখনো অনেক পথ বাকি। খুলনাকে রক্ত দানে সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল শহর হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন এখনও তাঁর কাজের অন্যতম প্রেরণা। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি মানুষের হাতে হয়তো পুরো শহর বদলে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু একজন মানুষ যদি আরও দশজনকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, আর সেই দশজন যদি আরও একশ মানুষকে সঙ্গে নিতে পারেন, তাহলে পরিবর্তন অসম্ভব নয়।
এই বিশ্বাস নিয়েই তাঁর পথচলা। একটি পরিচ্ছন্ন শহর, একটি সবুজ ভবিষ্যৎ এবং সচেতন তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন নিয়ে, সে এখন তার লহ্ম্য বাড়াতে কাজ করে জাচ্ছেন। খুলনার বৃহত্তম পরিবেশ বাদী সংগঠন আলোর মিছিলে। সে আলোর মিছিলে বন্যপ্রাণী রেস্কিউয়ার ও পরিবেশ ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে জাচ্ছেন।