| ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি November 6, 2026, 4:30 pm
শিরোনাম :
গ্রেপ্তার মগরাহাট পশ্চিমের তৃনমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি ইমরান মোল্লা অভিষেক ঘনিষ্ঠ সামিম আহমেদের ডায়মন্ড হারবারের পার্টি থেকে মিলল দুই কোটি টাকার অধিক নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ও পশ্চিম বাংলা সরকারের উদ্দোগে শুরু হতে চলেছে ভি ভি রাম জী প্রকল্পের কাজ, তার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসব ও বিজয়া পালনের উদ্বোধন করেন জেলা পুলিশ সুপার শ্রী চন্দ্রশেখর বর্মন নেত্রকোণা মদনে জোবাইদা রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজ ফলাফলে শীর্ষে দেওয়ালীর ও ছটপূজার আগে চা শ্রমিকদের জন্য এককালীন পাঁচ হাজার টাকা ও পঞ্চাশ কেজি খাদ্য বিতরণের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর মদনে ৪ উপজেলার আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ‘শেয়ার প্রোফাইল হালনাগাদ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত “একটি বিশেষ ঘোষণা ” খুলনার খবর হতে  স্থায়ীভাবে অব্যাহতি গ্রহন।  আমতলীতে জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ৩৬ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে কর্মশালা আজ কলকাতার রাজপথে গনতন্ত্র রক্ষা ও অরাজকতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে মাঠে বিজেপি র নেতৃত্ব

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ৪০ বছর ধরে বঞ্চিত এক বৃদ্ধা ও তার সন্তানরা আকরাম হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেটের সময়: শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
  • 321 সময় দেখুন

লার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের ভাটখালী গ্রামে মৃত আব্দুস সাত্তার মৃধার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, শরীয়াহ মোতাবেক সম্পত্তি বণ্টন না হওয়ায় তার স্ত্রী ও কন্যারা চার দশক ধরে বঞ্চনার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার মৃধা জীবদ্দশায় পর্যায়ক্রমে তিনটি বিয়ে করেন। তার প্রথম সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ছেলের নাম মাওলানা সুলাইমান মৃধা। দ্বিতীয় সংসারে জন্ম নেয় এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে—ছেলে মাওলানা ইউনুস মৃধা এবং মেয়েরা হলেন ফাতেমা বেগম, আয়েশা বেগম, সালেহা বেগম, হাজেরা বেগম ও সাহিদা বেগম। তৃতীয় সংসারে একমাত্র কন্যা সন্তান তানজিরা বেগম জন্মগ্রহণ করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আব্দুস সাত্তার মৃধার মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে সুলাইমান মৃধা ও ইউনুস মৃধা সম্পত্তির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন। যদিও পরবর্তীতে বোনদের কিছু অংশ প্রদান করা হয়েছে, তবে তা শরীয়াহ অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অংশের তুলনায় অনেক কম বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

বিশেষ করে তৃতীয় স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত করুণ বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর সম্পত্তিতে তার যে অংশ পাওয়ার কথা ছিল, তা তিনি আজও পাননি। বর্তমানে তিনি মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নে একটি ছোট কুঠুরি ঘরে বসবাস করছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোভাবে জীবনযাপন করলেও বার্ধক্যে তিনি চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে বেঁচে আছেন। এলাকাবাসীর সহায়তা ছাড়া তার কোনো উপায় নেই। পরিবার থেকেও তিনি তেমন কোনো সহযোগিতা পান না।”

এদিকে ইউনুস মৃধার সহোদরা সালেহা বেগম, হাজেরা বেগম ও আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার আপন ভাই ইউনুস মৃধা কিছু জমি দিলেও শরীয়াহ অনুযায়ী যে পরিমাণ পাওয়ার কথা, তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে সৎ বোন তানজিরা বেগমও তার নিজের এবং তার মায়ের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। এত বছর ধরে আমরা বঞ্চিত হয়ে আসছি।”
তিনি আরো বলেন ইউনুস মৃধা কাগজপত্রে আমাকে আপন বোন দেখিয়ে আমার সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে মাওলানা সুলাইমান মৃধা বলেন, “আমার ভাই ইউনুস মৃধা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন, আমি জমি জমা বিষয়ে ভালো বুঝিনা, তিনি সবকিছু দেখাশোনা করেন। সাক্ষাৎকার দিতে বললে তিনি ক্যামেরার সামনে আসতে আপত্তি করেন।”

এদিকে অভিযুক্ত মাওলানা ইউনুস মৃধার সাথে সরেজমিনের টিমের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যা করেছেন সেটা আমার বাবাই করে গেছেন। আমার বোনেরা এবং আমার সৎ মা যদি সম্পত্তি পেয়ে থাকে তাহলে আইনের মাধ্যমে তারা বুঝে নিবে আমার কোন আপত্তি নাই। স্থানীয় গণ্যমান্যদের মাধ্যমে মীমাংসার কথা বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং ক্যামেরার সামনে আসতে অসম্মতি প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে পারিবারিক এই বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং শরীয়াহ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ন্যায্য বণ্টনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধের একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান এখন সময়ের দাবি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর