
আকরাম হোসেন জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট:
বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গজালিয়া গ্রামে মোঃ সোহেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত মোঃ আব্দুস সাত্তার হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। বিশেষ করে তার বৃদ্ধা মা, প্রতিবন্ধী বোন মজিদা বেগম এবং ভাগ্নে বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, মজিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসড অবস্থায় আছেন। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রায় ৬-৭ বছর আগে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল হাওলাদার প্রায়ই তাকে মারধর করেন, গরম ভাত ছুড়ে মারেন এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। একইভাবে তার একমাত্র ছেলে বাপ্পিকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেছেন, তাকে নিয়মিত গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি খান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, “এই বৃদ্ধা একাধিকবার আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। কিছুদিন আগে সামান্য বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তাকে মারধর করে এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।”
চাচাতো ভাই শাহাবুদ্দিন হাওলাদার বলেন, “সে অত্যন্ত বেয়াদব ও উচ্ছৃঙ্খল। পরিবারের সবাইকে মারধর করে, এমনকি বড় ভাই, মা ও স্ত্রী কেউই তার হাত থেকে রেহাই পায় না।” অপর চাচাতো ভাই আলামিন জানান, “তার নির্যাতনে আমরা অতিষ্ঠ। এলাকায় শান্তি নেই।”
স্থানীয় নারী সদস্যরাও অভিযোগ করেছেন, সোহেল হাওলাদার মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন।
প্রতিবেশী দুলাল শেখ অভিযোগ করেন, “সে আমার গরু চুরি করে বিক্রি করতে চেয়েছিল। পরে ধরা পড়ে গরু ফেরত দিতে বাধ্য হয়।”
পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিযোগ, সোহেল হাওলাদার তাদের শরীকি সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। বড় ভাই নাসির হাওলাদার ও মেজ ভাই মহারাজ হাওলাদার জানান, “সে সবকিছু নিজে ভোগ করতে চায়, কাউকে কিছু দিতে চায় না।”
ভাগ্নে বাপ্পি বলেন, “আমাদের প্রাপ্য জমি এখনো বুঝিয়ে দেয়নি। আমরা অনাহারে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।” তিনি ইতোমধ্যে মোড়েলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত সোহেল হাওলাদারকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।