| ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি November 6, 2026, 4:14 pm
শিরোনাম :
গ্রেপ্তার মগরাহাট পশ্চিমের তৃনমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি ইমরান মোল্লা অভিষেক ঘনিষ্ঠ সামিম আহমেদের ডায়মন্ড হারবারের পার্টি থেকে মিলল দুই কোটি টাকার অধিক নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ও পশ্চিম বাংলা সরকারের উদ্দোগে শুরু হতে চলেছে ভি ভি রাম জী প্রকল্পের কাজ, তার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসব ও বিজয়া পালনের উদ্বোধন করেন জেলা পুলিশ সুপার শ্রী চন্দ্রশেখর বর্মন নেত্রকোণা মদনে জোবাইদা রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজ ফলাফলে শীর্ষে দেওয়ালীর ও ছটপূজার আগে চা শ্রমিকদের জন্য এককালীন পাঁচ হাজার টাকা ও পঞ্চাশ কেজি খাদ্য বিতরণের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর মদনে ৪ উপজেলার আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ‘শেয়ার প্রোফাইল হালনাগাদ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত “একটি বিশেষ ঘোষণা ” খুলনার খবর হতে  স্থায়ীভাবে অব্যাহতি গ্রহন।  আমতলীতে জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ৩৬ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে কর্মশালা আজ কলকাতার রাজপথে গনতন্ত্র রক্ষা ও অরাজকতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে মাঠে বিজেপি র নেতৃত্ব

দিঘলিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ভৈরব সেতু নির্মাণ কাজ নানা জটিলতায় আটকে

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেটের সময়: সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
  • 77 সময় দেখুন

এস.এম.শামীম দিঘলিয়া।

খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ভৈরব সেতু নির্মাণকাজ নকশাগত পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং প্রশাসনিক নানা সমস্যার কারণে এখনও শেষ হয়নি। প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রায় সাড়ে তিন বছর পার হলেও অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশের মতো। ফলে মহানগরী খুলনার সঙ্গে দিঘলিয়া উপজেলা, নড়াইল, গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, বহু প্রতীক্ষিত ভৈরব সেতু যেন শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন হয়েই না থেকে যায়। তারা দল-মত নির্বিশেষে দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অবহেলিত কৃষিনির্ভর দিঘলিয়াসহ ভৈরব নদীর দুই তীরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিকাশ ঘটবে এবং গড়ে উঠবে নতুন বাণিজ্যিক জোন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহানগরী খুলনার সঙ্গে দিঘলিয়া, কালিয়া, নড়াইল, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ভৈরব নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘ভৈরব সেতু’ প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে।

১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ স্টিল স্ট্রাকচারের এই সেতু নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয় ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল সেতু নির্মাণে ৩০৩ কোটি টাকা, জমি অধিগ্রহণে ২৮১ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন ও অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়।

২০২০ সালের ২৭ জুলাই সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (করিম গ্রুপ)। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ২৪ মে দিঘলিয়া প্রান্তে সরকারি খাস জমিতে ২৪ ও ২৫ নম্বর টেস্ট পাইলিংয়ের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

ভৈরব সেতু বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত নকশা অনুযায়ী সেতুটি ২৯টি পিলারের ওপর নির্মিত হবে। ইতোমধ্যে দিঘলিয়া অংশের অধিকাংশ পিলারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে খুলনা শহরাংশের রেলিগেট প্রান্তে ধীরগতিতে পিলার ঢালাইয়ের কাজ চলছে।

প্রকল্পটির কাজ তিন দফা সময় বৃদ্ধি করেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, রেলওয়ের জমি হস্তান্তরে বিলম্ব এবং নকশা পরিবর্তনের কারণে নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়নি।

সংশোধিত নকশায় সেতুর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ মোকাবিলা, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে মূল কংক্রিট কাঠামোর পরিবর্তে হাতিরঝিল ও কালনা সেতুর আদলে আর্চ টাইপ স্টিল স্প্যান ব্যবহার করা হবে।

নতুন নকশা অনুযায়ী মূল স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১৬০ মিটার করা হয়েছে। ফলে নদীর মাঝখানে কোনো পিলার থাকবে না এবং নৌযান চলাচল আরও সহজ হবে। এছাড়া সেতুর প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৩ মিটার করা হয়েছে। নতুন নকশায় সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইকের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন সংযোজন করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে আরও জানা গেছে, জমি অধিগ্রহণ ও বিদ্যুৎ খুঁটি স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হলেও খুলনা শহরাংশে রেলওয়ের জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এ কারণে নির্মাণকাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পের মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি করে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে তাদের একটাই প্রশ্ন—কেন এত ধীরগতিতে চলছে খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো প্রকল্প?

খুলনাবাসীর প্রত্যাশা, সব জটিলতা দূর করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভৈরব সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। কারণ এই সেতু শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচনের অন্যতম মাধ্যম।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর