
এস.এম.শামীম, দিঘলিয়া, খুলনা।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মাদক নির্মূলে প্রশাসনের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এক মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ফরমায়িশখানা গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাশগুপ্ত। অভিযানে দিঘলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উপস্থিতিতে এলাকায় মাদকবিরোধী তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে ফরমায়িশখানা গ্রামের মৃত জমির সরদারের ছেলে সালাম সরদার (২৫)-কে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে মাদক সেবনের দায়ে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাশগুপ্ত।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশগুপ্ত বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক সেবন, বহন, সংরক্ষণ কিংবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাদকের কারণে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলাকায় মাদকের প্রকোপ অনেকাংশে কমে আসবে। তারা মাদকমুক্ত দিঘলিয়া গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।