
কলকাতা থেকে নিউজ দাতা মনোয়ার ইমাম
আজ সকালে ভারত ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফলতা বিধান সভা কেন্দ্র এর তৃনমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও অভিষেক ব্যানার্জি র ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীর খান কে। বিগত বিধান সভার নির্বাচনে জাহাঙ্গীর খান তৃনমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন ফলতা বিধান সভা কেন্দ্রে। এবং প্রথম দফায় ভোট এর দিন ইভিএম ভোট মেশিনের মধ্যে কালো টেপ লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এবং পুরো ফলতা বিধান সভার নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এবং গত ২৯,শে এপ্রিল পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবং সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি ঠেকাতে আগে থেকেই ভোটের ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।এই ফলতা বিধান সভা কেন্দ্র এমন একটি কেন্দ্র এই কেন্দ্র থেকে বিগত লোকসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবার লোকসভা র এম পি প্রায় দুই লাখ এর কাছাকাছি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। কিন্তু গত বিধান সভার নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি র প্রার্থী দেবাঙ্গশু পান্ডা প্রায় এক লাখ এর অধিক ভোটে জয়ী হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তৃনমূল কংগ্রেসে নেতা ও কর্মীরা এই কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এবং সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মুখে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের ঘর বাড়ি ছাড়া করেছিল। এবং ফলতার বিভিন্ন যায়গায় থেকে মোটা অংকের তোলা আদায় করে তৃনমূল দলের তহবিলে দিয়েছে।গত বিধান সভার নির্বাচনে ফলতা বিধান সভা নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উত্তর প্রদেশের আই পি এস অফিসার শ্রী অজয় পাল শর্মা কে নিয়ে আসতে হয়। তিনি ফলতার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা ও সাহস যোগাতে থাকে। এবং নির্বাচনের পর এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী দেবাঙ্গশু পান্ডা জয়ী হন। ঠিক তার আগেই পুস্পা জাহাঙ্গীর ফলতা বিধান সভা কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যায়। অবশেষে আজ ভারত ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতার এস টি এফের বিশেষ বাহিনী সদস্যরা।এই জাহাঙ্গীর খান যেমন একদিকে তৃনমূল কংগ্রেসের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার দাপুটে নেতা। অন্যদিকে তিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদ এর পূর্ত ও পরিবহন দপ্তরের কর্মধক্ষ্য ছিলেন। কিছুদিন আগে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ক্যানিং পূর্ব এর বিধায়ক ও তৃনমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দাপুটে নেতা শওকত মোল্লা কে গ্রেপ্তার করে এন আই এ সদস্যরা। ঠিক এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই আবার তৃনমূল দলের দাপুটে নেতা ও অভিষেক ব্যানার্জি র ঘনিষ্ঠ নেতা জাহাঙ্গীর খান কে গ্রেপ্তার করা হল।এর পর সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তুলেছেন যে বিগত বিধান সভার নির্বাচনে মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক সামিম আহমেদ কে জয়ী করার জন্য যে সমস্ত তৃনমূল কংগ্রেসের ব্লক নেতৃত্ব এবং অঞ্চল তৃনমূল কংগ্রেসের নেতা ও নব তৃনমূল দলের নেতা ও কর্মীরা,যারা সাধারণ মানুষের উপর জুলুম ও অত্যাচার এবং সাধারণ মানুষের ভয় দেখিয়ে তৃনমূল দলের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করেছিল এবং ভোটের মুখে মদ ও গুন্ডা বাহিনী এবং বাইক বাহিনী নিয়ে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের উপর অত্যাচার করেছিল তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিতে চলেছে সেটা দেখার বিষয়। এবং মগরাহাট পশ্চিমের বিধান সভার নির্বাচনে বহু যায়গায় বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীদের উপর জুলুম ও মোটা অংকের জরিমানা আদায় করার জন্য আগে থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছিল যে সমস্ত তৃনমূল দলের নেতা ও নব তৃনমূল পর্যায়ের নেতারা তাদের কি শাস্তি হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা দেখার জন্য তাকিয়ে আছে গোটা পশ্চিম বাংলা।।