
মোঃ আলম খান,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দিনের পর দিন বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা, বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও ইন্টারনেটনির্ভর বিভিন্ন সেবা।
মদন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদর এলাকায় তুলনামূলক ভাবে কিছুটা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান, মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলেও বিদ্যুৎ বিল কমছে না, বরং অনেকের বিল আগের তুলনায় আরো অনেক বেশি করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে সামান্য মেঘ বা বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া যেন মদন উপজেলাতে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত সংযোগ পুনরুদ্ধার হয় না। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক গ্রাহক। তারা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মদন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম ভারপ্রাপ্ত,মোঃ আক্তারুজ্জামান বলেন,
জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। মদনে দিনে প্রায় ১২ মেগাওয়াট এবং রাতে প্রায় ২ মেগাওয়াট সব মিলিয়ে-১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ডিজিএম ভারপ্রাপ্ত,মোঃ আক্তারুজ্জামান, গ্রাহকদের কাছে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দ্রুত স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন মদন উপজেলা বাসিন্দারা।