
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, মানবাধিকার কর্মী এবং সাংবাদিক সুরক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের খুলনা জেলা সদস্য সচিব মোঃ শাহ্ নেওয়াজকে ফোনে হুমকি ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং সুশীল সমাজের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভিতে প্রচারিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘বিপ্লব’ পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি মোঃ শাহ্ নেওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করেন এবং প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে অসহায় ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক মোঃ শাহ্ নেওয়াজ অভিযোগ করে বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাকে মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মোঃ বিপ্লব মিয়া, পিতা- মৃত মানিক মিয়া, গ্রাম- তকেয়া কেশবপুর, ইউনিয়ন- পায়রাবন্দ, থানা- মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুরের বাসিন্দা। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা মনে করেন, কোনো সংবাদ বা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা আইনগত ও নৈতিক উপায়ে সমাধান করা উচিত। হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা চাপ সৃষ্টি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
এদিকে, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিক মহলের অভিমত, বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।