| ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি June 6, 2026, 2:28 am
শিরোনাম :
“শেষ কবে মাংস খেয়েছি, মনে নেই”— ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারার চোখে আনন্দের জল মদনে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার ধ্বংসের পথে যুবসমাজ কেন্দুয়ায় শিশুদের খেলা নিয়ে বিরোধ সংঘর্ষে নিহত-১, দিঘলিয়া থানা আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আমতলীতে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ২ দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন মো. সেলিম রেজা দিঘলিয়ায় হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের বাতিঘর সাগর জুট স্পিনিং মিলস্ লি: সংকটের মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত, বিদেশি মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি টিকে আছে হাজারো পরিবারের জীবিকা পশ্চিম বাংলা সরকারের অন্নপূর্ণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ময়দানে বিজেপি নেতা ও কর্মীরা আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু সাংবাদিক মোঃ শাহ্ নেওয়াজকে হুমকির অভিযোগ: তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

“শেষ কবে মাংস খেয়েছি, মনে নেই”— ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারার চোখে আনন্দের জল

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেটের সময়: শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬
  • 16 সময় দেখুন

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের জাহানারা বেগম। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত এই নারী দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। সংসারের অভাব-অনটন আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আজ প্রায় নিঃস্ব। এমন অবস্থায় শেষ কবে মাংস খেয়েছেন, সেই স্মৃতিও মনে করতে পারেন না তিনি।

জাহানারা বেগমের স্বামী জামাল হাওলাদার পেশায় একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের সহায়-সম্বল। এখন সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

অভাব এতটাই প্রকট যে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের দুপুরের খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। নদীতে মাছ ধরলেও অধিকাংশ মাছ বিক্রি করে দিতে হয় সংসার ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে। ফলে নিজেদের জন্য মাছ কিংবা মাংস খাওয়া যেন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

শেষ কবে মাংস খেয়েছেন— এমন প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ নীরব হয়ে যান জাহানারা বেগম। এরপর চোখ ভিজে ওঠে তার। তিনি বলেন, “মনে করতে পারি না বাবা, কবে মাংস খেয়েছি।”

সম্প্রতি ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে দেওয়া দুই কেজি কোরবানির মাংস পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মাংস হাতে পেয়েই দ্রুত রান্নার আয়োজন শুরু করেন। রান্না শেষ হয়েছে কি না, তা জানতে ছোট ছেলে বারবার মায়ের কাছে ছুটে আসে। ভাত তখনও রান্না হয়নি। ছেলের আগ্রহ দেখে মুড়ির সঙ্গে কিছু মাংস খেতে দেন তিনি।

পাশে বসে সন্তানের তৃপ্তি নিয়ে মাংস খাওয়া দেখছিলেন জাহানারা বেগম। তার চোখে ছিল অপার মমতা, মুখে প্রশান্তির ছাপ। সন্তানের মুখে এমন আনন্দ দেখে কিছুক্ষণের জন্য যেন ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অসুস্থতা, অভাব আর জীবনের সব কষ্টের কথা।

দীর্ঘদিনের কষ্ট আর বঞ্চনার মাঝেও সন্তানের মুখের হাসিই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কোরবানির সেই মাংস তাই শুধু একটি খাবার নয়, জাহানারা বেগমের পরিবারের জন্য ছিল ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য উপহার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর