| ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি November 4, 2026, 1:53 pm
শিরোনাম :
“একটি বিশেষ ঘোষণা ” খুলনার খবর হতে  স্থায়ীভাবে অব্যাহতি গ্রহন।  আমতলীতে জেন্ডার সমতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে ৩৬ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে কর্মশালা আজ কলকাতার রাজপথে গনতন্ত্র রক্ষা ও অরাজকতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে মাঠে বিজেপি র নেতৃত্ব আজ ইন্ডিয়া জোটের ডাকে গনতন্ত্র রক্ষার ডাকে সাড়া রাহুল গান্ধীর বারুইপুর পূর্বে অসহায় মূমূর্ষ রুগীদের পাশে বিজেপির দুই নাম্বার মাইনোরিটি কমিটির নেতৃবৃন্দ গনতন্ত্র ও সামাজিক উন্নয়নে সকলকেই এগিয়ে আসার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একজন মানুষের স্বপ্ন, একদল তরুণের পথচলা সংগ্রাম পেরিয়ে রক্ত দান পরিবেশ ও জলবায়ু আন্দোলনে মো: রবিউল ইসলাম গভীর সুন্দর বন এলাকার হোগল নদীর বাঁধ ভাঙণ, নদীগর্ভে সর্বসান্ত বহু পরিবার আগামী ৩০,শে অক্টোবর বারুইপুরের এন আই সি মাঠে পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে মাঠ পরিদর্শন করতে বিজেপি র সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ মদনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও হাত ধোয়ার কৌশল প্রদশন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

গোপালগঞ্জে মায়ের মুক্তির দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে ০৮ বছরের জেরিন

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেটের সময়: সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
  • 121 সময় দেখুন

এস.এম.লুৎফর সিকদার- গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গলায় ঝুলছে ছোট্ট একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, “আমার মা ও ৮ মাসের ভাইয়ের জেল থেকে মুক্তি চাই।” প্ল্যাকার্ডটি গলায় ঝুলিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এসে নীরবে বসে ছিল আট বছরের শিশু জেরিন। তার একটাই আবেদন… মাকে আর ছোট ভাইকে যেন বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
গতকাল রবিবার (২৮ জুন) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মায়ের মুক্তির দাবিতে সেখানে অপেক্ষা করছে জেরিন। তবে ওই সময় ইউএনও জেলা সদরে সরকারি কাজে থাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি শিশুটি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশু জেরিনকে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ মে কোটালীপাড়া থানা-পুলিশ তার সৎ মা আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আকলিমার সাত মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য ছেলেও মায়ের সঙ্গে কারাগারে রয়েছে। এরপর থেকেই পরিবারটি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেরিন বলে, “মা জেলে যাওয়ার পর থেকে আমার খুব কষ্ট হয়। ছোট ভাইটাও জেলে আছে। ও তো কিছুই বোঝে না। মা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি চাই মা আর আমার ছোট ভাই বাসায় ফিরে আসুক। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই।”
জেরিনের বাবা মুন্না মোল্লা বলেন, সংসারটা একেবারে ভেঙে গেছে। সাত মাসের ছেলে সন্তানটি জেলে বড় হচ্ছে, আর বাসায় তিনটি মেয়ে মাকে ছাড়া কষ্টে আছে। আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত যদি জামিন দেন, তাহলে পরিবারটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বেগম বলেন, “জেরিনকে প্রায়ই মায়ের জন্য কাঁদতে দেখি। শিশুটির এই আকুতি আমাদেরও কষ্ট দেয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, তবে শিশুদের বিষয়টি মানবিকভাবে দেখা প্রয়োজন।
কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, “মামলাটি বিচারাধীন হওয়ায় আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে সাত মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু ও তিন কন্যাশিশুর ভবিষ্যতের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।”
একদিকে বিচারাধীন মামলা, অন্যদিকে মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য একটি শিশুর আকুতি। দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে জেরিনের ছোট্ট প্ল্যাকার্ডটি যেন বড় একটি প্রশ্ন তুলে ধরে- শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা কী থাকা উচিত!

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর