| ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |১৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি July 29, 2026, 11:22 am
শিরোনাম :
গত রবিবার ধূলিগাতীর মেয়ে খানপুরের ছেলে সাতগাতী মহাশ্মশানে অবৈধ কার্যকলাপে জনতার হাতে আটক। বিস্তারিত খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ পাবে গোপালগঞ্জে পাইককান্দি পুকুর থেকে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার গত ২৪,শে জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কে নিয়ে কলকাতার রাজপথে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রতিবাদে উস্তি থানাতে অভিযোগ পত্র দাখিল বিজেপি র সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দের। অতিরিক্ত চাপ কমাতে বর্ধমান ও শিলিগুড়ি উড়াল সেতুর শুরু উদ্ধোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ অরন্য দিবস উপলক্ষে সকলকেই পরিবেশ বান্ধব জীবন যাপন করার আহ্বান জানান মন্ত্রী দিপঙ্কর জানা খুলনা জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন দিঘলিয়া প্রেসক্লাব সদস্য অধ্যাপক লোকমান হোসেনের পিতার মৃত্যুতে প্রেসক্লাবের গভীর শোক গোপালগঞ্জে এজলাসে নারী আইনজীবী (শিক্ষানবিশ)মাথা ফাটালেন বিচারক পান চাষে অর্থনৈতিক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা গোপালগঞ্জে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা… বাদীর স্বীকারোক্তি -“ভুল সিদ্ধান্ত”

গোপালগঞ্জে এজলাসে নারী আইনজীবী (শিক্ষানবিশ)মাথা ফাটালেন বিচারক

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেটের সময়: বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬
  • 104 সময় দেখুন

লুৎফর সিকদার গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে বিচারকের ছোড়া পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনজীবী সমাজে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। একজন বিচারকের এমন সহিংস আচরণকে আদালত অবমাননা ও ফৌজদারি অপরাধের সামিল বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়,আজ বুধবার (২২ জুলাই) চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার আদালতে বিচারকাজ চলাকালীন এজলাসের পেছনের সারিতে উপস্থিত কয়েকজন মক্কেল নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া তাদেরকে নীরব থাকতে বলেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা সাথে সাথেই শান্ত হয়ে গেলেও ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া হঠাৎ চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং নিজের টেবিলে থাকা ভারী পেপার ওয়েটটি মক্কেলদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে মারেন।
পেপার ওয়েটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় সজোরে আঘাত করে। তীব্র আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরবর্তীতে উপস্থিত সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই আইনজীবীর চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পর আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এজলাসে বিচারকের এমন অনভিপ্রেত আচরণে গোপালগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বারের একাধিক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিচারক সুজন মিয়া প্রায়শই কোর্ট চলাকালীন মক্কেল ও আইনজীবীদের সাথে অশোভন আচরণ করে থাকেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারকের আসন একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পবিত্র স্থান। এজলাসে মেজাজ হারিয়ে এই ধরনের মারাত্মক শারীরিক আঘাত বা সহিংস আচরণ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৪/৩২৬ ধারা (মারাত্মক অস্ত্র বা বস্তু দিয়ে স্বেচ্ছায় আঘাত) এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর সরাসরি লঙ্ঘন। এটি বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা অবিলম্বে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হাইকোর্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ এবং দায়ী বিচারকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর