
স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ মমিনুল ইসলাম।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং দাপুটে আওয়ামী লীগ নেতা মন্তাজ উদ্দিন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে কাশিমপুর থানার লতিফপুর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কাশিমপুর থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. খালিদ হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল লতিফপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃত মন্তাজ উদ্দিন মণ্ডল লতিফপুর এলাকার মৃত সাঈদুর রহমান মণ্ডলের ছেলে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কাউন্সিলর থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। বিশেষ করে স্থানীয় কল-কারখানায় একক আধিপত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর সব অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে (যেমন: KEC কারখানা) হামলা, শ্রমিক মারধর এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট মামলা ছিল। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকায় এতদিন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা এবং এলাকায় নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে দায়েরকৃত একাধিক মামলায় মন্তাজ উদ্দিন মণ্ডলকে আসামি করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তার নেতিবাচক ভূমিকার বিষয়েও পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।
কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা মো. খালিদ হাসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজি ও নাশকতার মামলার ভিত্তিতে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।”
দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে লতিফপুর ও কাশিমপুর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
তাকে আজ কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।