
মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার।। যশোরের কেশবপুর প্রেসক্লাবে নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি ভেস্তে দিতে হামলা, ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
রোববার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাস্থল সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের দ্বিবার্ষিক সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রেসক্লাবে দাপ্তরিক কাজ চলছিল। এ সময় সাবেক সভাপতি ডাবলুর নেতৃত্বে বহু বহিরাগত ভবনে ঢুকে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দৈনিক লোকসমাজ-এর প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী, দৈনিক কল্যাণ-এর প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ এবং দৈনিক সময়ের খবর-এর প্রতিনিধি জাহিদ হাসানসহ বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্লাব অবরুদ্ধ করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর হামলাকারীরা নিজেদের পছন্দের ৫১ সদস্যের একটি বিতর্কিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। নতুন এই কমিটিতে মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন-অর রশিদকে সদস্য সচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে। ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফউজ জামান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে পেশাদার সাংবাদিকদের আটকে রেখে ক্লাব দখলের মহড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা প্রেসক্লাব উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র।” তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের হামলায় মাহাবুর রহমান সবুজ ও সাদেক হোসেন নামে তাঁদের দুই সদস্য আহত হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সমস্যা সমাধানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেশবপুর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের দুই গ্রুপের উত্তেজনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।