| ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |১৯শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি October 30, 2026, 5:52 am
শিরোনাম :
গভীর সুন্দর বন এলাকার হোগল নদীর বাঁধ ভাঙণ, নদীগর্ভে সর্বসান্ত বহু পরিবার আগামী ৩০,শে অক্টোবর বারুইপুরের এন আই সি মাঠে পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে মাঠ পরিদর্শন করতে বিজেপি র সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ মদনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও হাত ধোয়ার কৌশল প্রদশন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বেগমপাড়া নাটকের প্রচার স্টলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক দিঘলিয়ার গাজিরহাটে ভিডব্লিউবির চাল বিতরণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করায় সাংবাদিককে গালিগালাজ ও হুমকি সুন্দর বন এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সকলকেই এগিয়ে আসার আহ্বান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিঘলিয়ায় জাতীয় পার্টির উপজেলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত দিঘলিয়ায় সেনহাটি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সন্মেলনে অধ্যক্ষ মাওঃ কবিরুল ইসলাম দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে জান ও মাল দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে খুলনার দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান এর মায়ের  জানাজা ও দাফন সম্পন্ন, প্রেসক্লাবের শোক বিবৃতি। উস্তি থানা এলাকায় উত্তর কুসুম গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

দিঘলিয়া থানা থেকে বদলি হয়ে গেলেন সৎ, নিষ্ঠাবান ওসি এইচ. এম. শাহীন।

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেটের সময়: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২৫
  • 153 সময় দেখুন

এস.এম.শামীম, খুলনা ব্যুরো।তাঁর বিদায়ে দিঘলিয়ার সাধারণ মানুষের মনে গভীর শূন্যতা

খুলনার দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ. এম. শাহীন দিঘলিয়া থানা থেকে বদলি হয়েছেন। একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, আদর্শবান ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দিঘলিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন—তাঁর বিদায়ে সেই মানুষদের হৃদয়ে যেন তৈরি হয়েছে এক বিশাল শূন্যতা।

দিঘলিয়া থানা ছাড়ার আগে তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা এবং আবেগমাখা বিদায় জানানো দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। দিঘলিয়া থানা পুলিশের সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ—সবার মুখেই একটাই কথা, “ওসি শাহীন ছিলেন দিঘলিয়া থানার মানুষের জন্য একজন অভিভাবক।

ওসি এইচ. এম. শাহীন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দিঘলিয়া থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। চোরাচালান, মাদক, নারী নির্যাতন ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর এবং জিরো টলারেন্স নীতির অনুসারী।

অন্যদিকে, অসহায়–দরিদ্র মানুষের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত মানবিক। রাত-দিন যেকোনো সময় কেউ থানায় গেলে বা ফোন করলে তিনি দ্রুত সাড়া দিতেন। জরুরি পরিস্থিতিতে নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এটাই ছিল তাঁর নিয়মিত কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন,
“ওসি শাহীন শুধু পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো। দিঘলিয়ার রাস্তাঘাট, চৌরাস্তা—সবখানেই আমরা তাঁকে পেয়েছি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে।”

দিঘলিয়ার মানুষ বলেন, থানার ফোন নম্বরই যেন ছিল তাঁদের নিরাপত্তার আশ্রয়।
অভিযোগ পেলেই ওসি শাহীন নিজেই বিষয়টি নজরে নিতেন। কোথাও গোলযোগ, পারিবারিক বিরোধ, বা সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি হলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে,
“ওসি শাহীন দিঘলিয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। তিনি যোগ্যতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা আরও উঁচু করেছেন।”

পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত রদবদলের অংশ হিসেবে ওসি শাহীনকে দিঘলিয়া থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। তাঁর বদলির সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই থানা এলাকায় ভিড় করেন অনেকেই। ফুল হাতে, শুভকামনা জানিয়ে, চোখ ভেজানো বিদায় বার্তায় তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় আবেগঘন মুহূর্ত।

এক প্রবীণ নাগরিক বলেন,
“আমরা বহু ওসিকে এখানে দেখেছি, কিন্তু শাহীন সাহেবের মতো মানবিক আর দায়িত্বশীল অফিসার খুব কমই পেয়েছি। তাঁর মতো কর্মকর্তার বিদায় আমাদের কষ্ট দিয়েছে।

দিঘলিয়া থানার সদস্যরা জানান, ওসি শাহীন ছিলেন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ, দূরদর্শী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন কর্মকর্তা। তাঁর নেতৃত্বে থানার সদস্যরা আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ নিয়ে কাজ করেছেন।

থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন,
“স্যার আমাদের শুধু কাজ শেখাননি, শিখিয়েছেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাঁর মতো নেতাকে হারানো আমাদের জন্য বড় ক্ষতি।”

মানুষের সেবা, অপরাধ দমন, মানবিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধ—সবকিছু মিলিয়ে ওসি এইচ. এম. শাহীন দিঘলিয়া থানায় রেখে গেছেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা,
“তিনি যেখানেই দায়িত্ব নিন না কেন, তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও মানবিকতার আলো আরও ছড়িয়ে পড়ুক।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর