রিপোর্টে ভুল, অতিরিক্ত টাকা আদায় ও রোগী হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ রোগী ও স্বজনদের"
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ— ডা. ওয়াহিদা সুলতানা নামের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রিপোর্ট ভুল দেওয়া, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া, এমনকি অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
রোগীদের দাবি, অনেক সময় সঠিক রিপোর্ট না পেয়ে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। একজন রোগী বলেন, “একটি রিপোর্ট যদি ভুল হয়, তা একটি জীবন ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। তবুও এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।”
অভিযোগকারীরা আরও জানান, ডা. ওয়াহিদা সুলতানার সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনেক সময় অহংকারী আচরণ ও অবহেলার শিকার হতে হয়। তাদের ভাষায়, “মনে হয় যেন পুরো মেডিকেল কলেজ তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি।”
বিভিন্ন সময় হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, অনেক রোগীকে বাইরে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ঐসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন থাকতে পারে, যদিও তা এখনো প্রমাণিত নয়।
এই বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তারা বলেন— অভিযোগের বিষয়ে তারা অবগত নন। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সরকারি চিকিৎসকদের অনৈতিক আর্থিক কার্যক্রম বা রোগী হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এজন্য ভুক্তভোগীদের লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে অভিযোগের এ ধরনের ঘটনা রোগী সেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
একটি রিপোর্ট বা পরামর্শই যদি কারও জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত হয়, তবে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকার জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।